ক্রীড়া প্রতিবেদক
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। শারজায় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। ফলে ফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৫.৩ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। ফাইনালে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে শুধু জিতলেই হতো না, জয় পেতে হতো অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে। অন্যদিকে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে না পারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হতো বাংলাদেশের।
কিন্তু ব্যাটিং ও বোলিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশিত ফল পায়নি বাংলাদেশ। আফগানরা ১১৯ রান পার করে যাওয়ায় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়।
শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়
টসের পর আগে ব্যাট করতে নেমে ৪১.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের চাপে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
দলীয় ৬ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান। পরের বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দুই বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
ইমন-সাইফের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়।
তবে ৮২ বলে ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হন সাইফ হাসান। তাঁর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। বিলাল সামির বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে মাত্র ২ রান করেন তিনি।
অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে রান তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান ইমন। তাঁর ব্যাট থেকেই আসে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ—একটি অর্ধশতক।
তবে ইমনের লড়াইও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। ৭০ রান করে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এরপর আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান কোনো রান না করেই ফিরে গেলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬০ রানে। তাসকিন আহমেদ ২ রান করে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত এই সংগ্রহ আফগানিস্তানের সামনে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি। ৭ উইকেটের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আফগানরা। তাদের সঙ্গী হয়েছে জিম্বাবুয়ে, আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।