নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম PeMaxx-এর মালিকানা, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম, বিনিয়োগ সংগ্রহের পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম PeMaxx-এর মালিকানা ও পরিচালনার সঙ্গে জিয়া, প্রিন্স ও রাকেশ নামের কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। তাঁদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে বিভিন্ন দাবি উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জিয়ার বাড়ি নোয়াখালী এবং রাকেশ ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া, প্রিন্সের ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন করে তিনি ‘এরশাদ আলি মন্ডল’ পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, PeMaxx প্ল্যাটফর্মে ১০ ডলার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা ফরেক্স ট্রেডিংয়ে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে অর্থ সংগ্রহের প্রকৃত পদ্ধতি, বিনিয়োগের শর্ত, গ্রাহকদের অর্থ কোথায় রাখা হয়, ট্রেডিং কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয় এবং অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

PeMaxx-এর ওয়েবসাইট ভিজিট করলে দেখা যায়, সেখানে ফরেক্স, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন উপকরণের মূল্য ওঠানামার তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
এ ছাড়া জিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে ‘সোলমেস্ক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা ও হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রিন্সের বিরুদ্ধে এন এর কয়েন ও সিরাবি কয়েনসহ একাধিক বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও অনলাইন ফরেক্স কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে PeMaxx বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, PeMaxx-এর প্রচারণার সঙ্গে কয়েক হাজার সদস্যের একটি মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) নেটওয়ার্কের সাবেক সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফরের সুযোগ ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, PeMaxx-এর কার্যক্রম ও বাংলাদেশে অর্থ সংগ্রহের বৈধতা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।