Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

● আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হার, ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় বাংলাদেশের ● জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এশিয়া: জাতিসংঘ ● যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন ● জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দাবানল, বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা ● যুক্তরাষ্ট্র থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন গম ● বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার জাতিসংঘের ● জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট ● ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ● টেকনাফে বসতঘরের খাটের নিচে রাজ গোখরা, উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত ● বাংলাদেশে অনুমোদনহীন পিমেক্স-এর ফরেক্স কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন, জিয়া-প্রিন্স-রাকেশ পুরোনো প্রতারকচক্র নতুন রূপে
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট

রেজাউল করিম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর,২০২৬, ১২:১৫ এ এম
জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট। বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে, চরম তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাচ্ছে।

খাদ্য, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও ঋণগ্রস্ত দেশগুলোতে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জাতিসংঘ এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্যনিরাপত্তা’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং এসবের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও করণীয় তুলে ধরেন আলোচকেরা।

খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে সরকারি বাজেট
আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকে বারবার খাদ্যমূল্যের আকস্মিক ঊর্ধ্বগতির মুখে পড়তে হয়েছে। যুদ্ধ, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের বাজারে অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর চালের দাম ৫০ শতাংশ, গমের দাম ৩৭ শতাংশ এবং সয়াবিনের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে নাইজারে বৃষ্টিপাত ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ায় গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে চরম তাপপ্রবাহ।

রদ্রিগো ভালদেসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চরম তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে জিডিপি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমছে। খাদ্যসংকট মানুষের খাবার পাওয়া ও তা কেনার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, খাদ্যবাজার তেলের বাজারের মতো বিশ্বব্যাপী সমন্বিত নয়। খাদ্য উৎপাদন স্থানীয় আবহাওয়া ও ফসলের উৎপাদনচক্রের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে খাদ্যসংকটের ধরন ও স্থায়িত্ব জ্বালানিসংকটের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। তবে এর আর্থিক প্রভাব যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।

তার হিসাব অনুযায়ী, চরম তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারি রাজস্ব আয় শূন্য দশমিক ১৫ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। একই সময়ে তীব্র খরার কারণে সাহেল ও পূর্ব আফ্রিকায় সরকারি ব্যয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংকট শুরু হওয়ার পর ত্রাণ কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসার উপযুক্ত জনগোষ্ঠীর নিবন্ধন এবং ডিজিটাল অর্থ পরিশোধব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এতে সংকট দেখা দিলে দ্রুত ও কার্যকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এখন বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি
আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতাকে আর শুধু সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি এখন বারবার ফিরে আসা সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্বগত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এসব সংকটের প্রভাব পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

নাইজেল ক্লার্কের মতে, উচ্চ ঋণ, সুদের চড়া হার ও সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে নিম্ন আয়ের এবং ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংকটের সময় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এসব দেশের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

আমদানিনির্ভর সোমালিয়ায় একের পর এক সংকট
সোমালিয়ার অর্থমন্ত্রী বিহি এগেহ তাঁর দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দেশটি কোনো একটি সংকটের মুখোমুখি নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে একাধিক সংকটের সম্মিলিত প্রভাব মোকাবিলা করছে। তিনি পরিস্থিতিটিকে ‘ককটেল অব শকস’ বা বিভিন্ন সংকটের মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সোমালিয়ার মোট খাদ্য ব্যবহারের ৭৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন কিংবা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির খাদ্যবাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দ্রুত পড়ে।

বিহি এগেহ বলেন, ২০২০ সালে ধারাবাহিক খরা, ২০২৪ সালে এল নিনো-সংশ্লিষ্ট বন্যা, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সোমালিয়ার অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

আমদানিনির্ভর খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক সংকট যুক্ত হওয়ায় দেশটির পক্ষে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

ত্রাণনির্ভরতা কমিয়ে বাড়াতে হবে কৃষি উৎপাদন
বুরকিনা ফাসোর অর্থমন্ত্রী আবুবাকার নাকানাবো বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা শুধু কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়। এর সঙ্গে অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সরকারি রাজস্ব এবং নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত।

তিনি জানান, দেশটি বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো পরস্পরসম্পর্কিত সমস্যার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে শুধু ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে মানুষকে নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আবুবাকার নাকানাবোর মতে, কৃষকদের সেচসুবিধা ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তাঁরা নিজেরাই খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

খাদ্য ও শরণার্থীর চাপ সামলাচ্ছে জিবুতি
জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ বলেন, প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, ২০১২-১৩ সালে প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও সুদানে কৃষিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল জিবুতি। কিন্তু কোভিড মহামারি, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোও সংকটের মুখে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চারণভূমি সংকুচিত হওয়ায় প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে জিবুতিতে শরণার্থীদের আগমন বেড়েছে। নিজ দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের খাদ্যের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে দেশটিকে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক উত্তেজনা দেখা দিলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে। কারণ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খাদ্য পরিবহন ও সরবরাহের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

খাদ্যের দাম বাড়লে বাড়বে অপুষ্টি ও মানবসম্পদের ক্ষতি
জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিডব্লিউএ) নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি বলেন, সংস্থাটির ২২টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৯টি সরাসরি সংঘাত অথবা সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু খাবারের প্রাপ্যতা নয়, মানুষের তা কেনার সামর্থ্যও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, একটি পুষ্টিকর খাবারের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

রোলা দাশতি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়লে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ নির্ভর করে খাদ্যের দামের ওপর। ফলে খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে খাবার পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করা জরুরি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। খাদ্যসংকটের কারণে শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষা ব্যাহত হলে দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ এবং সামাজিক মূলধনের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
আলোচনায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু খাদ্যবাজারে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি বাজেট, রাজস্ব আহরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও এর কারণে চাপে পড়ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর, ঋণগ্রস্ত ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো একসঙ্গে একাধিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করছে।

সংকটের ক্ষতি কমাতে আলোচকেরা কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কতা ও তথ্যভান্ডার তৈরি, ডিজিটাল অর্থ পরিশোধব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো, কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি বাজেট প্রণয়ন।

সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সরবরাহ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)