টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বসতবাড়ির খাটের নিচ থেকে বিশাল আকৃতির বিষধর কিং কোবরা বা রাজ গোখরা উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। পরে সাপটিকে লোকালয় থেকে দূরে বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বসতবাড়ির খাটের নিচে সাপটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির লোকজন খাটের নিচে বড় আকৃতির একটি সাপ দেখতে পান। একপর্যায়ে সাপটি উত্তেজিত হয়ে ছোবল দেওয়ার চেষ্টা করলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরে সাপটি ঘর থেকে বেরিয়ে এলে বাড়ির মালিক কৌশলে সেটিকে একটি বস্তার মধ্যে আটকে রাখেন। এরপর বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিলখালী রেঞ্জের অধীন রাজারছড়া বিটের বিট কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করে। বন বিভাগের সদস্যরা সাপটিকে কিং কোবরা বা রাজ গোখরা হিসেবে শনাক্ত করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সাপটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বনরক্ষক হাবিব হোসেন, ইআরটি ও সিপিজির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বন বিভাগের সদস্যরা সাপটিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার হাজী মোজাহের স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে বন্যপ্রাণী প্রবেশ করলে আতঙ্কিত হয়ে সেগুলো হত্যা না করে বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত। প্রশিক্ষিত সদস্যদের মাধ্যমে উদ্ধার করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ।
বসতবাড়ির খাটের নিচে এমন বিষধর সাপের উপস্থিতি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করলে সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।