আবদুর রহমান নোমান, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভোলার লালমোহনে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সম্প্রতি আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় লালমোহন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, এর আগে তিনটি নির্বাচনে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছিল। নির্বাচনের আগেই ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ বাহিনী তাঁর বাসা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
তিনি বলেন, দুটি নির্বাচনেই তাঁর বাসাটি হাসপাতালে পরিণত হয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও কারচুপি হয়েছিল। তাঁর এজেন্টদের বাসায় গিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল। আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ পালায় না। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় চোরের দল মানুষ দেখেনি। ভূমিমন্ত্রীর লন্ডন শহরে ১৬০টি বাড়ি রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে বসে আরাম-আয়েশ করছে। এখানে একজন সন্ত্রাসী ছিল, যে কয়েক শ জমি দখল করেছে। তারা মনে করেছিল, কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দুর্বৃত্তায়ন ও অন্যায় করেছে, তাদের সবার বিচার ধীরে ধীরে করা হবে। সরকারের আট মাসের শাসনামলে তাদের মতো অত্যাচার-নির্যাতন কোথাও হয়নি। তিনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন বলেও জানান। বিরোধী দলও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তানজানিয়ায় বিশ্বের ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। তাঁকে এ অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে নির্বাচিত হননি। এ সম্মান তাঁর একার নয়, এটি সবার সম্মান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। তাঁর এলাকায় যেন কেউ চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদেরও তিনি বলে দিয়েছেন, কেউ যেন অপকর্ম করে পার না পায়। সাধারণ মানুষের ওপর কোনো অন্যায়-অপকর্ম হতে দেবেন না।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন নারী সংসদ সদস্যকে হাসপাতালে দখলবাজির অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ায় একজন প্রতিমন্ত্রীকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ত্রাণসামগ্রী বিতরণ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। প্রকৃত জেলেরা যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছর যারা লুটপাট করেছে, তারা ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়, সেই চেষ্টা করছে তারা। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। অতীতে এত পূজামণ্ডপ কখনো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সালিশ-বিচারের নামে দুই পক্ষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। নেতাকর্মীদের সালিশ-বিচার করতে নিষেধ করেছেন তিনি। আইন, থানা ও আদালতের মাধ্যমে মানুষ বিচার পাবে। কেউ কারও জমি দখল করলে তাঁকে লঞ্চে করে ঢাকায় এসে বিষয়টি জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে লঞ্চভাড়া দিয়ে দেবেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ আলিমুল গায়েব, তিনি সবকিছু দেখেন। মৃত্যুর পরের অবিনশ্বর জীবনে কীভাবে শান্তি পাওয়া যাবে, তা চিন্তা করে সবাইকে সৎ পথে চলতে হবে।
আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চুরি ও লুটপাট করে সম্পদ নিয়ে গেছে। টাকা দিয়ে আইন-আদালত কিনে ফেলে। ভারতে প্রাসাদের মধ্যে বসবাস করে। এভাবে লুটপাট কেউ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁরা ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চান বলেও জানান।
মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, লালমোহন ও তজুমদ্দিনে তিনি মাদক দেখতে চান না। কোনো নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তাঁর ব্যাংকে কোনো টাকা ছিল না এবং তাঁর জমিজমাও ছিল না।
সবশেষে স্পিকার বলেন, তাঁকে ব্যক্তিগত তদবিরে ব্যস্ত না রেখে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করবেন।