ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা প্রতিটি দলের হাতে ট্রফি উঠলেও সেই ট্রফি স্থায়ীভাবে তাদের কাছে থাকে না। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেরই প্রশ্ন—বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কি আসল ট্রফি পান, নাকি তার প্রতিরূপ?
উত্তর হলো, ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন দল আসল ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপন করার সুযোগ পেলেও সেটি স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারে না। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিরাপত্তার স্বার্থে ফিফা মূল ট্রফিটি ফিরিয়ে নেয়। পরে বিজয়ী দলকে দেওয়া হয় আসল ট্রফির হুবহু নকশায় তৈরি সোনা-আবৃত একটি প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) ট্রফি, যাতে চ্যাম্পিয়ন দেশের নাম খোদাই করা থাকে।
বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এটি ৩৬ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার উঁচু এবং ওজন ৬ দশমিক ২ কেজি। ট্রফিটির নকশায় দুজন মানুষের হাতে পৃথিবীকে উঁচু করে ধরে রাখার প্রতীকী দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বিশ্বকাপের বাইরে সময়জুড়ে মূল ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকে। বিশেষ প্রদর্শনী বা ফিফার আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এটি প্রদর্শন করা হয়।
জুল রিমে ট্রফির ইতিহাস
বর্তমান ট্রফির আগে বিশ্বকাপে দেওয়া হতো জুল রিমে ট্রফি। ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্লুর এর নকশা করেন। ট্রফিটিতে প্রাচীন গ্রিক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’র অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এটি ছিল ৩৫ সেন্টিমিটার উঁচু এবং সোনা-আবৃত রুপা দিয়ে তৈরি।
তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে ট্রফিটি স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নিতে পারত। সেই নিয়মে ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল জুল রিমে ট্রফির স্থায়ী মালিক হয়।
তবে ট্রফিটির ইতিহাসে দুটি চুরির ঘটনাও রয়েছে। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় এটি চুরি হয়েছিল। পরে ‘পিকলস’ নামের একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঝোপের নিচে ট্রফিটি খুঁজে পায়।
এরপর ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে আবারও ট্রফিটি চুরি হয়। এবার সেটি আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়, চোরেরা ট্রফিটি গলিয়ে ফেলেছিল।
বর্তমান ট্রফির যাত্রা
জুল রিমে ট্রফির পরিবর্তে নতুন বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা করেন ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে বর্তমান ট্রফি প্রদান শুরু হয় এবং এটি ইতালির প্রতিষ্ঠান জিডিই বার্টোনি তৈরি করে।
বর্তমান ট্রফি যুগে বিশ্বকাপ জিতেছে জার্মানি (১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪), আর্জেন্টিনা (১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২), ইতালি (১৯৮২ ও ২০০৬), ব্রাজিল (১৯৯৪ ও ২০০২), ফ্রান্স (১৯৯৮ ও ২০১৮) এবং স্পেন (২০১০)।
বিশ্বকাপ ট্রফি ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতীকগুলোর একটি। নিরাপত্তা, সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় মূল ট্রফিটি ফিফার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেও স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন কেবল এর আনুষ্ঠানিক প্রতিরূপ।