স্পোর্টস ডেস্ক
স্লাভকো ভিনচিচ।
ছবি:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহারণ আর মাত্র এক ধাপ দূরে। রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিনে ইয়ামালের স্পেন। এরই মধ্যে ফিফা নিশ্চিত করেছে, ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
রেফারি ঘোষণার পর আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ম্যাচে ভিনচিচের অতীত রেকর্ড।
৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ ২০১০ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২২ সালের উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পরিচালনা করেছেন। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ভিনচিচের। সে আসরে তিনি দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে আসন্ন ফাইনাল হবে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং চলতি আসরের চতুর্থ ম্যাচ।
স্পেনের ম্যাচে ভিনচিচের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক বেশি। ২০১৭ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ, ইউরো ২০২০-এ সুইডেনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্ব এবং ২০২৩ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। তবে এসব ম্যাচই ছিল লামিনে ইয়ামালের জাতীয় দলে অভিষেকের আগের।
ইয়ামালের সঙ্গে ভিনচিচের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ইউরো ২০২৪-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। একটি গ্রুপ পর্বে ইতালির বিপক্ষে স্পেনের ১-০ গোলের জয়, অন্যটি সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়। ওই ম্যাচেই দুর্দান্ত দূরপাল্লার গোলে সমতা ফিরিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ইয়ামাল।
অন্যদিকে, ভৌগোলিক কারণে আর্জেন্টিনার ম্যাচে খুব কমই দায়িত্ব পালন করেছেন ভিনচিচ। এখন পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের মাত্র একটি ম্যাচেই তিনি রেফারি ছিলেন। সেটিই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে তিক্ত স্মৃতির একটি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন ভিনচিচ। সেই হারে ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড। ভিনচিচের অধীনে এটিই এখন পর্যন্ত মেসিদের একমাত্র ম্যাচ এবং একমাত্র হার।
তবে ওই ম্যাচে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষেও গিয়েছিল। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কর্নারের সময় লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউলের শিকার হলে তিনি আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন। সেই স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। এছাড়া পুরো ম্যাচে সৌদি আরবের খেলোয়াড়দের ছয়টি হলুদ কার্ড দেখালেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাননি তিনি।
এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে আবারও মেসির আর্জেন্টিনার ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন স্লাভকো ভিনচিচ। অন্যদিকে, তার পরিচালনায় খেলা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইয়ামালের স্পেন। ফলে রোববারের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে এই স্লোভেনিয়ান রেফারির পারফরম্যান্সের দিকেও থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের বিশেষ নজর।