জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে এসে মারধরের ঘটনায় নিহত ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী কামরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
ছাত্রশিবির সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে পরিচালিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় মওলানা ভাসানী হলের আশপাশের বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে কদবেল, সফেদা, আমড়া, আতা, লটকন, জলপাই, দেশি বেল, হরবড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ইসলামে বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি গাছ থেকে মানুষ, পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণী উপকৃত হলে তার সওয়াব রোপণকারীর আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। সেই ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমাদের এই আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় আমাদের একমাত্র শহীদ কামরুল ইসলাম ভাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে এই স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজ রোপণ করা চারাগুলো একসময় বড় গাছে পরিণত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। একই সঙ্গে এসব গাছ শিক্ষার্থী, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য উপকারী পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও কামরুল ইসলামের স্মৃতিকে বহন করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ১৬ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি পরীক্ষার মৌখিক (ভাইভা) দিতে এসে ছাত্রশিবির কর্মী কামরুল ইসলাম নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। মওলানা ভাসানী হলের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ার পর তৎকালীন ছাত্রদলের ক্যাডাররা (বামপন্থী কিছু সংগঠনের সহযোগিতায়) রাত আনুমানিক ৭টায় কামরুলকে ভাসানী হলের ৩২২ নম্বর কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। পকেটে শিবিরের ডায়েরি পেয়ে তাঁর ওপর রাতভর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। লাঠি, লোহার রড ও কাচের বোতল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে তাঁর হাত ও চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয় এবং শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। আর্তচিৎকার থামাতে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়।
পরদিন ১৭ আগস্ট সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিকট পৌঁছালে ঢাকা নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঘাতকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে তাঁর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।