নিজস্ব প্রতিবেদক
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় স্পিকার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে মেয়াদ পূর্ণ করলে বা পদত্যাগ করলে অবসর-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।
আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি সর্বশেষ মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পান। বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, এ পরিমাণ প্রায় ৯০ হাজার টাকা (মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হিসেবে)।
তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি থেকে অবসরভাতা পেয়ে থাকলে, তিনি দুটি ভাতার মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণ করতে পারবেন।
মাসিক অবসরভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিক নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবসরের এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরভাতা গ্রহণের আগেই মারা যান, তবে তিনি আনুতোষিক গ্রহণে সম্মত ছিলেন বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তার মনোনীত ব্যক্তি বা আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা (স্ত্রী বা স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র বা কন্যা) সেই সুবিধা পাবেন।
অবসরভাতা ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য আরও কয়েকটি সরকারি সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজে সহায়তার জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) ও একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেন্ডেন্ট), সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যয়, একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের সরকারি চিকিৎসা সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বাসভবনে টেলিফোন সংযোগ ও বিল-সুবিধা, দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ এবং সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য সরকারি যানবাহন।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো সাংবিধানিক বা সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেন, যার জন্য তিনি রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য সুবিধা পান, তাহলে এ আইনের আওতায় প্রদত্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
এ ছাড়া, কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি যদি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে উপযুক্ত আদালতে দণ্ডিত হন অথবা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে ঘোষিত হন, তাহলে তিনি এ আইনের অধীন অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অধিকার হারাবেন।