আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, থানায় ভাঙচুর এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক কর্নেল, এক মেজরসহ প্রায় ৪০ জন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফআইআরে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্ত সেনাসদস্যরা কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের ওপর হামলা চালান এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেন।
এফআইআর অনুযায়ী, হামলার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসএইচও অমৃত কাটোচ একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাইরে থাকাকালে সেনাসদস্যরা থানায় প্রবেশ করেন। থানায় ফিরে আসার পর মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালান। একপর্যায়ে তার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ডিএসপি বিজয় কুমার ভগতকেও মারধর করা হয়।
পুলিশের দাবি, হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা থানার বিভিন্ন স্থাপনা ও সরকারি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা এআরটিওর সরকারি গাড়ি, আথোলি থানার এসএইচওর গাড়ি এবং এসডিপিওর গাড়ি ভাঙচুর করে। পাশাপাশি থানার প্রধান ফটকও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
পুলিশের দাবি, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মধ্যে বিরল সংঘাত হিসেবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।