নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্যোগকবলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ, জলবায়ু অর্থায়নের স্থানীয়করণ, নারী নেতৃত্বাধীন জলবায়ু অভিযোজন এবং সবুজ অর্থনীতিতে বিশেষ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন (সিবিও), যুব সংগঠন ও নারী প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন (সিবিও) সামিট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সামিটের আয়োজন করে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নারী ও যুব নেতৃত্ব বিকাশ, গবেষণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী কমিউনিটি সংগঠন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের চেয়ারপারসন সামিয়া আফরিন। তিনি বলেন, দেশের ৫০টিরও বেশি সংগঠনের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে, যা জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি বলেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, সমন্বিত কর্মসূচি প্রয়োজন। বিভিন্ন উদ্যোগকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন এবং যুব সংগঠনগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের হেড অব ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস রাইটস ড. মোহাম্মদ ইমরান হাসান বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক জ্ঞানের সমন্বয়ের মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজনের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন সামনে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি ঘোষণাপত্রে উত্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সামিটে উপস্থাপিত ঘোষণাপত্রে জলবায়ু ন্যায়বিচার, স্থানীয় নেতৃত্ব, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু অর্থায়নের স্থানীয়করণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জীবিকা সংকট এবং বাস্তুচ্যুতিসহ বহুমাত্রিক জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারাই টেকসই সমাধান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ, নারী ও যুবদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
ঘোষণাপত্রে ১০ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— কমিউনিটিভিত্তিক ও যুব সংগঠনের জন্য সহজ ও বিকেন্দ্রীভূত নিবন্ধন ব্যবস্থা, জলবায়ু অর্থায়নের স্থানীয়করণ, স্থানীয় সংগঠন ও নারীদের সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সেবা, সিবিওগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারী ও যুবদের কার্যকর অংশগ্রহণ, গবেষণা ও স্থানীয় জ্ঞানকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নারী নেতৃত্বাধীন জলবায়ু অভিযোজন ও সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
এ ছাড়া ভূমি, বন, জল ও উপকূলীয় সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন উন্নয়ন ও জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার সুরক্ষার দাবি জানানো হয়।