বিনোদন ডেস্ক
প্রেম, বিয়ে আর বিচ্ছেদ—হলিউডের পপ তারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনায়। তবে একাধিক সম্পর্ক ভাঙার অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মউন্নয়ন ও নতুন শুরুর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ব্রেকআপ বা বিচ্ছেদকে শোক নয়, উদযাপন করা উচিত।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর নতুন রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘অফিস রোমান্স’–এর প্রচারণায় মিশরীয় কমেডিয়ান কারিম রাহমার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সাবওয়ে টেকস’–এ অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন ৫৬ বছর বয়সী এই তারকা।
জেনিফার লোপেজ বলেন, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তিনি পেয়েছেন হৃদয় ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকে। তাঁর ভাষায়, “মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং আবেগীয় দিক থেকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিকাশগুলো ঘটেছে হৃদয় ভাঙার পর। শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, ক্যারিয়ারের ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।”
তিনি বলেন, বিচ্ছেদ মানুষকে নিজের ভেতরে তাকাতে শেখায়। তখন মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করে—কী ভুল হয়েছে, কেন এমন হলো এবং কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করা যায়। এই আত্মসমালোচনাই মানুষকে বদলে দেয়।
সমাজে ব্রেকআপ বা ডিভোর্সকে সাধারণত নেতিবাচকভাবে দেখা হলেও জেনিফারের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমাদের উচিত ব্রেকআপের পর পার্টি করা। মানুষের বলা উচিত, ‘তোমাদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে? অভিনন্দন!’ কারণ, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। আর সম্ভবত সেটাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।”
ব্যক্তিগত জীবনে জেনিফার লোপেজ চারবার বিয়ে করেছেন। ১৯৯৭ সালে ওজানি নোয়ার সঙ্গে প্রথম বিয়ে হলেও এক বছরের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ক্রিস জুড (২০০১–২০০৩) এবং গায়ক মার্ক অ্যান্থনি (২০০৪–২০১৪)-এর সঙ্গে সংসার করেন তিনি। মার্ক অ্যান্থনির সঙ্গে তাঁর যমজ সন্তান ম্যাক্স ও এম্মে রয়েছে।
পরে ২০১৯ সালে সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজের সঙ্গে বাগদান হলেও ২০২১ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। একই বছর পুরোনো প্রেমিক বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে আবার সম্পর্কে জড়ান এবং ২০২২ সালে বিয়ে করেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি; ২০২৪ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়।