নিজস্ব প্রতিবেদক
মোটরগাড়ির ব্যবহৃত (পোড়া) মবিল দিয়ে তৈরি চুলার উৎপাদন, বাণিজ্যিক বিক্রি, অনলাইনে প্রচার এবং যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।
একই সঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এসব চুলার উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে কী ধরনের আইনগত, প্রশাসনিক ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুলতানা শেহেরজাদ দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুসরাত জাহান বলেন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে রিটটি করা হয়। ব্যবহৃত মোটর অয়েল পোড়ানোর ফলে মারাত্মক বিষাক্ত দূষক নির্গত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নুসরাত জাহান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট নিলুফা সুলতানা, অ্যাডভোকেট মীর সাজিদ রুবেল ও অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা আহমেদ ও জাশেদুল জনি।
রিটে পরিবেশ, আইন, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ মোট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী ব্যবহৃত মোটর অয়েল ‘ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য’ হিসেবে চিহ্নিত। এটি উন্মুক্ত পরিবেশে পোড়ানো পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব চুলা ব্যবহারকারী রেস্তোরাঁ কর্মী ও ভাসমান খাদ্য বিক্রেতারা দীর্ঘসময় বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকায় শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে চুলা থেকে নির্গত বিষাক্ত কণা খাবার ও রান্নার তেলে মিশে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
এ ছাড়া দাহ্য বর্জ্য তেলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনবহুল এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং যথেচ্ছ নিষ্কাশনের কারণে মাটি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাশয়ের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
রিটে পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব চুলা জব্দ ও ধ্বংসের ব্যবস্থা নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব চুলা তৈরির ভিডিও ও বিজ্ঞাপন অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ব্যবহৃত মোটর অয়েল পোড়ানোর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতি সম্পর্কে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।