লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার লালমোহন উপজেলায় সংখ্যালঘু পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক মুসলিম পরিবারের বৈধভাবে ক্রয় করা জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চর প্যারীমোহন ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, চর প্যারীমোহন এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে মো. আবুল কালাম, মো. জাহের, মো. ওমর ফারুক, কামাল মাঝি, ছলেকা বেগম ও শাখেরা বেগমের ক্রয়কৃত জমি দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার গোপাল চন্দ্র দাস, অরুণ কুমার দাস ও তপন কুমার দাস জবরদখল করে ভোগদখল করছেন।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম জানান, চর প্যারীমোহন মৌজার এসএ ২৮ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগভুক্ত মোট ১ একর ১৬ শতাংশ জমি তিনি ১৯৯৮ সালের ৩০ মার্চ অমৃত লাল দাস ও সুনীল চন্দ্র দাসের কাছ থেকে দলিলমূলে (দলিল নং-১৫৩৬) ক্রয় করেন।
তার দাবি, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে তারা জমির দখল বুঝে নিতে পারেননি। বর্তমানে সংখ্যালঘু পরিচয়ের বিষয়টি সামনে এনে তাদের বৈধ মালিকানা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "এ ঘটনায় আমরা লালমোহনের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৩২১/২০২৫) দায়ের করেছি। দলিল ও কাগজপত্র অনুযায়ী আমরা আমাদের জমির দখল ফেরত চাই।"
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। তাদের ভাষ্য, কেউ প্রতিবাদ করলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তোলার ভয় দেখানো হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অরুণ কুমার দাস বলেন, "তরুণী কান্ত দাস আমার জ্যাঠাতো ভাই। তারা এখন আর বেঁচে নেই। তাই ওই জমির মালিকানা আমার।"
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই মালিকানা নির্ধারণ করবে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।