টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
'নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া'র তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার দাবি করেছে আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে প্রায় তিন হাজার মানুষ সরাসরি ও অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাঙ্গামাটিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত টেকনাফের শিক্ষার্থী, তরুণ, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত টেকনাফের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংহতি জানান।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ৫৬ জন ব্যক্তি ছবি ও সংহতির বার্তা পাঠিয়ে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। টেকনাফ–উখিয়ায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে এটি একটি নাগরিক উদ্যোগ।
তারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ২৮ জুলাই সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালো (ব্ল্যাক) প্রোফাইল ছবি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, এই প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে টেকনাফ–উখিয়ার নিরাপত্তা সংকট, অপহরণ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে।
এ ছাড়া টেকনাফ–উখিয়াকেন্দ্রিক বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনকে নিরাপদ সীমান্ত ও জননিরাপত্তার দাবিতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।