নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট সংকটের প্রভাব এখনো দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে পড়ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০২১-২২ সালে বৈশ্বিক কোভিড-পরবর্তী সংকটের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব নানা সমস্যাও অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট ও জ্বালানি নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আপাতত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিল্পায়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চলছে। পাশাপাশি সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।
তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো এবং ভোলার গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি, তাই এর সমাধানও রাতারাতি সম্ভব নয়। অতীতের ভুলের কিছু মূল্য দেশকে দিতেই হচ্ছে। তবে সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের সমস্যার দায় শুধু অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আলোচনা করাই সরকারের লক্ষ্য।
সরকারের আন্তরিকতার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের সম্পাদকদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, অতীতে প্রায় সব খাতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সব কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব না হলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এবং জনগণও সেই প্রচেষ্টা উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।