আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল এবার নতুন ও উদ্বেগজনক এক রূপ নিয়েছে। দাবানলের তীব্র তাপ থেকে তৈরি হচ্ছে বিশালাকার ‘ফায়ার ক্লাউড’ বা আগুনের মেঘ, আর সেই মেঘ থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে বজ্রপাত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো এমন বিরল আবহাওয়াগত ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ফরাসি গবেষক জ্যঁ-বাপতিস্ত ফিলিপি বলেন, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ঘটনা আগেও দেখা গেলেও ফ্রান্সে এটি একেবারেই নতুন। তার মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে পরপর তিনটি তাপপ্রবাহ আঘাত হানায় এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কীভাবে তৈরি হয় ‘ফায়ার ক্লাউড’?
ফিলিপির ব্যাখ্যায়, দাবানলের প্রচণ্ড তাপে বিপুল পরিমাণ গরম বাতাস ও জলীয় বাষ্প দ্রুত ওপরে উঠে যায়। পরে তা ঘনীভূত হয়ে বিশাল কিউমুলোনিম্বাস (বজ্রগর্ভ) মেঘে পরিণত হয়, যাকে ‘ফায়ার ক্লাউড’ বলা হয়।
এই মেঘের ভেতরে ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। অনেক সময় এসব মেঘ থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও তা মাটিতে পৌঁছানোর আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এতে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে দ্রুত শীতলতা তৈরি হয়ে শক্তিশালী নিম্নমুখী ঝোড়ো বাতাস সৃষ্টি হয়, যা দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
দমকলকর্মীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গিরোন্দ অঞ্চলে দমকলকর্মীরা এই নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে পারলেও ‘ফায়ার ক্লাউড’ ঠিক কোথায় তৈরি হবে, তা আগে থেকে নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেঘ মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি জ্বলন্ত অঙ্গার অনেক দূর পর্যন্ত বহন করে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ফলে দাবানল দ্রুত নতুন নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ইউরোপের আরও অঞ্চলে এ ধরনের ‘ফায়ার ক্লাউড’ দেখা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।