আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হরমোজগান, সিস্তান ও বেলুচিস্তান এবং খুজেস্তান প্রদেশ।
এদিকে, বুধবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর শহরের তিনটি স্থানে মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালালেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে প্রাদেশিক গভর্নর জানিয়েছেন।
পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে এর তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে।
তিনি তেহরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, সমঝোতায় না এলে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গত রোববার ভোর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে পরিচালিত হামলাগুলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের হামলার জবাব হিসেবে চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণ নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আরব অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে কয়েকটি আরব দেশ তাদের ভূখণ্ডে বেসামরিক হতাহত ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান ওই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও পাঠিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই