মিজানুর রহমান রিপন, মহিপুর (পটুয়াখালী)
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশীপ । সেই ধারাবাহিকতায় দেশের জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক ও জেলে পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকা সৃষ্টির লক্ষ্যে “Empowering Climate Vulnerable Farmers and Fishermen of Bangladesh through Livelihood Opportunities” প্রকল্পের আওতায় সবজি বীজ বিতরণ এবং কৃষি–সম্পর্কিত বহুমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর )সকাল ১০.০০ টার সময় মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের সুলতান আকনের বাড়িতে এ সবজি বীজ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সুলতান আকন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইয়ুব আকন ফিরোজ, আ:মুমিন ইমন, আ:আজিজ মাওলানা, বেল্লাল গালিব সহ অত্র এলাকার কৃষক ও কৃষানি। সবজি বীজ বিতরণ ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ টি পরিচালনা করেন ফ্রেন্ডশীপ সংস্থার কুয়াকাটা অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান শুভ এবং ফিল্ড অর্গানাইজার মোসা:নুপুর বেগম। এ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে FRIENDSHIP Sustainable Economic Development বিভাগ এবং আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে Luxembourg Aid & Development এবং Friendship Luxembourg। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অনাবৃষ্টি এই পাঁচটি প্রকৃতি ঝুঁকি মানুষকে প্রতিনিয়ত বিপর্যস্ত করে তুলছে। বিশেষ করে কৃষক ও জেলেরা এসব জলবায়ু–বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা টেকসই করতে আধুনিক কৃষি–জ্ঞান, মানসম্মত বীজ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজার–ব্যবস্থাপনা শেখানো সময়ের দাবি। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের GAP (Good Agricultural Practices), নিরাপদ কৃষি আইন, বীজ নির্বাচন ও সংরক্ষণ, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ, সঠিক সময়ে ফসল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত পদ্ধতি, সংরক্ষণ, বাজার উপযোগী প্রস্তুতকরণ এবং স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারের বড় অংশই মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ায় তাদের আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও বীজ সহায়তা কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল হতে, স্বল্প খরচে মানসম্মত উৎপাদন করতে এবং নতুন বাজারে প্রবেশ করতে সহায়তা করবে। জেলেদের ক্ষেত্রেও বিকল্প জীবিকায় অংশগ্রহণ তাদের পরিবারকে আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে। উল্লেখ্য, FRIENDSHIP দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, সুশাসন, শিক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন ও জীবিকা–উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের দুর্গম, প্রত্যন্ত, এবং অবহেলিত অঞ্চলে কাজ করছে। জলবায়ু–দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নই তাদের কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কৃষক–জেলেরা বলেন, আধুনিক কৃষি–জ্ঞান ও প্রযুক্তি তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, এই শিক্ষা বাস্তবে প্রয়োগ করলে উৎপাদন বাড়বে, খরচ কমবে এবং পরিবারে অর্থনৈতিক স্থিতি ফিরবে। অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কৃষি–প্রশিক্ষণ, চারা ও বীজ সহায়তা, বাজার–সংযোগ, এবং জলবায়ু অভিযোজন ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে।