আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স (Multinational Maritime Defense Alliance)’ নামে এ জোটের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করা।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই জোট একটি প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই জলপথগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একাধিক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে জোটটি গঠন করা হয়েছে।
রিয়াদে অনুষ্ঠিত জোট গঠনের বৈঠকে বিশ্বের ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ১৪টি দেশ হলো সৌদি আরব, বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরাস।
তবে একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও এতে যোগদানের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সামরিক জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত নয়; এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ। সদস্য দেশগুলো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ অপারেশনাল পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বিত নৌ টহল এবং নিয়মিত সামুদ্রিক সামরিক মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি যৌথ দায়িত্ব। আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের বহুজাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আল জাজিরা বাংলা