আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় সরকার এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে।
যদিও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, বিভিন্ন বিবৃতি দিচ্ছেন এবং গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন, তবু ভারতের দাবি—তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের দীর্ঘদিনের মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের অংশ। সেই বিবেচনায় শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার লোকসভায় উপস্থাপিত ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তা বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
কংগ্রেস নেতা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান শশী থারুরের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তবে তাকে ভারতের ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি নয়াদিল্লি।