মহিপুর
মিজানুর রহমান রিপন, মহিপুর (পটুয়াখালী)
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গতকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আজ মঙ্গলবারও এ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের এ কর্মসূচিতে সারা দেশের ন্যায় কলাপাড়া উপজেলার শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে সহকারী শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্ম বিরতিতে অংশ নিয়েছে। গতকালের ন্যায় আজও পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে কর্মবিরতি থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা গতকাল শুরু হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের দপ্তরীর সহযোগিতায় পরীক্ষা নিয়েছেন।
পরীক্ষা চলাকালীন সময় কয়েকটি বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় সহকারী শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সমাপনী পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে বিদ্যালয় অবস্থান করে কর্ম বিরতি পালন করছেন। এ সময় তারা পূর্ণদিবস কর্ম বিরতি লেখা প্ল্যাকার্ড টেবিলে রেখে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসে আছেন। নীলগন্জ ইউনিয়নের লস্করপুর, মহিপুর ইউনিয়নের মহিপুর ও মোয়াজ্জেমপুর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা না নিয়ে কর্ম বিরতি পালন করছেন। এসকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন। মোয়াজ্জেমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত রুনা, ফেরদৌস জাহান, সুমি আক্তার, কুলসুম আক্তার রোজিনা বলেন,গত ২৭ নভেম্বর '২০২৫ থেকে আমাদের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে কর্ম বিরতি পালন করছি যা আজ পর্যন্ত চলমান আছে। কলাপাড়া উপজেলায় ১৭২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৪ টিতে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক, ৬৪ টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ৭৪ টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক রয়েছে। দশম গ্রেড বাস্তবায়ন, উচ্চতর গ্রেড প্রদান, শতভাগ পদোন্নতি সহ বিভিন্ন দাবি সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে মেনে নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কিন্তু উল্লেখিত দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে সরকার এখন পর্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারা আরো জানান,দাবি আদায়ে উপজেলা শিক্ষক পরিষদ গত ৩০ নভেম্বর '২০২৫ তারিখ উপজেলাব্যাপী সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে অনলাইনে জুম মিটিং এর মাধ্যমে বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়া ও কর্মবিরতি পালন করার আলোচনা হয়েছে।মোয়াজ্জেমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক খাদিজা বেগম চম্পা বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা আমি একাই নিচ্ছি। আমার বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করে বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি যৌক্তিক এবং তাদের দাবি দাওয়ার প্রতি আমার সমর্থন আছে। এ বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণীর (তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম) ছাত্র ছাত্রীদের একটি কক্ষে গাদাগাদি করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি একা এবং আমার বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষের সংকট থাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আমার সাধ্য মতো সুষ্ঠভাবে বাচ্চাদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু আমার কষ্ট বা পরিশ্রম একটু বেশি হচ্ছে। এদিকে নীলগন্জ ইউনিয়নের লস্করপুর বিদ্যালয় গিয়ে একই অবস্থা দেখা যায়। সহকারী শিক্ষক লাইজুয়ারা, নোমান সিদ্দিকী ও মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় অবস্থান করছেন। প্রধান শিক্ষক তহমিনা আক্তার রুবী একাই পরীক্ষা নিচ্ছেন। মহিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৃপ্তি রানী ভৌমিক ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা নিচ্ছেন এবং তাকে সহায়তা করে বিদ্যালয়ের দপ্তরি।কর্মবিরতি পালন করা সকল সহকারী শিক্ষকরা বলেন, আমাদের দাবি দাওয়া সরকার এই মূহুর্তে বাস্তবায়ন করলে আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া শুরু করব এবং প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে শুক্র ও শনিবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,শিক্ষার্থীদের বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষার পর সন্মানিত শিক্ষকবৃন্দ তাদের দাবি দাওয়া আদায়ে কর্মবিরতি বা আন্দোলন করলে ভালো হতো। কেননা যে শিক্ষক সারা বছর তার ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখা শিক্ষা দিয়েছেন বা পাঠদান করিয়েছেন সেই শিক্ষকের পরীক্ষার সময় অনুপস্থিতি যা ছাত্র ছাত্রীদের আশানুরূপ ভালো পরীক্ষার অন্তরায়।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের কর্মবিরতি ও সমাপনী পরীক্ষা বিষয়ে আলোচনা হয়, তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ শিক্ষক নেতৃবৃন্দের কে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানান।