টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে কুখ্যাত ‘সাদ্দাম গ্রুপ’ নামে পরিচিত মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মুচনী নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল মানবপাচারকারী চক্রটির আস্তানায় অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে সম্মুখভাগে থাকা সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
আহত তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটে কর্মরত। তাঁর সেনা নম্বর ৪৫১৯৫১৭। তিনি দীর্ঘ নয় বছর ধরে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান শেষে মানবপাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে যৌথ বাহিনী। পরে আস্তানাটি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে জিম্মি অবস্থায় রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব নারী-পুরুষকে টেকনাফে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে তাঁদের পাহাড়ি এলাকার ওই আস্তানায় আটকে রাখা হয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।