পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর মহিপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসী পরিবারের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৪টায় কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির মহিপুর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী শিক্ষার্থী মো. মুসা গাজীর পক্ষে তার দাদি মোসা. ফাতিমা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মুসা গাজীর বাবা মো. মজিবুর রহমান গাজী প্রায় ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। প্রবাসজীবনের উপার্জিত অর্থ ও পারিবারিক সঞ্চয়ে ২০২৪ সালে তারা ইউসুফপুর মৌজার বিএস ৮১৬ খতিয়ানের ২৩০৩ ও ২৩০৭ দাগভুক্ত জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইমরান হাওলাদারসহ কয়েকজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানায় অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও, অভিযুক্তরা তা অমান্য করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন ইমরান হাওলাদার, মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেল্লাল ইসলাম গালিব (মাইকেল), মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী আকন ফিরোজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার, রাসেল মাহমুদসহ কয়েকজন এক্সকাভেটর দিয়ে জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন।
এতে বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর চাচা আব্দুল মতিন গাজী মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- আর/১১৬/২৬) করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২১ জুন কলাপাড়া আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলেও আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২৩ জুন অভিযুক্তরা পুনরায় জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মতিন গাজী, শহিদুল গাজী ও দেলোয়ার দুয়ারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
হামলায় আব্দুল মতিন গাজী গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেন। এরপরও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোসা. ফাতিমা বলেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমরা শুধু আমাদের বৈধ সম্পত্তির সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ দলের নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ৯৯৯-এ অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে থানায় আর কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।