নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, ভোট কমিশন ও নির্বাচন কমিশন গঠনে আগ্রহী নয়। ফলে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং রাষ্ট্র সঠিক পথে পরিচালিত হবে। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কার পরিষদের গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সেই রায়কে অগ্রাহ্য করেছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। এটি কোনো দলীয় দাবি নয়, বরং জনগণের রায়ের বাস্তবায়নের দাবি।
সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষিত সমাজের একটি বড় অংশ জনগণের আমানতের খেয়ানত করছে। তারা অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ ও অধিকার দখল করছে। সুশিক্ষা থাকলে এমন অবিচার হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতার কারণে এখনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে, যুবকদের কর্মসংস্থান নেই এবং নারী নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।