নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, অতীতের মতো এবার বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি। এটিকে তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যের শুরুতে অর্থমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ‘সুন্দর বাজেট’ উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানান ফারুক। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে একটি সময়োপযোগী বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমালোচনা অবশ্যই করতে হবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। তিনি বলেন, “বহু বাজেট দেখেছি, কিন্তু এবার আমার ভালো লেগেছে—বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি। আপনারা সমালোচনা করুন, আমরা জবাব দেব। তবে সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক।”
আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে তিনি একাত্তরে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করার আহ্বান জানান।
জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানান। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাজেটে স্বাস্থ্য, শিল্প, নারী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ইতিবাচক পদক্ষেপ।
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও তিক্ততা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। “বাংলাদেশ সবার আগে”—এমন মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।