নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঋণভিত্তিক নয়, অনুদানভিত্তিক আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত সীমিত হলেও এর বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে দেশটিকে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ঋণের পরিবর্তে অনুদান পাওয়াই ন্যায্য।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল কমিউনিটি বেজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) সামিট-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, “যেসব দেশের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি হচ্ছে, তাদের কাছ থেকেই আবার ঋণ নিয়ে সেই ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।” তিনি বৈশ্বিক জলবায়ু অন্যায়কে জলবায়ু ন্যায়বিচারে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থায়ন এনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বছর দুই কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারীদের সম্পৃক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন বলেন, জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি এলাকার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি তরুণদের গবেষণায় যুক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের হেড অব ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস রাইটস ড. মোহাম্মদ ইমরান হাসান বলেন, জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে স্থানীয় কমিউনিটির অবদানই সবচেয়ে বড় শক্তি।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু সংকট কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা। অথচ কমিউনিটি-ভিত্তিক সংগঠনগুলো এখনো আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও জাতীয় নীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পায়নি।
সামিটে জলবায়ু নেতৃত্ব, গবেষণা, নীতি সংলাপ, যুব অংশগ্রহণ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন কৌশল নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের কমিউনিটি সংগঠনগুলোর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।