পবিত্র আশুরা (১০ মহররম) ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় একটি দিন। এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজা বিগত এক বছরের সগিরা (ছোট) গুনাহের কাফফারা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কুরআনের নির্দেশনা
যদিও পবিত্র কুরআনে সরাসরি ‘আশুরা’ শব্দটি উল্লেখ নেই, তবে মহররম মাসকে সম্মানিত চার মাসের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারোটি, আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।”
— (সূরা আত-তাওবাহ: ৩৬)
আশুরার রোজার ফজিলত
হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি এর বিনিময়ে আগের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।”
— (সহিহ মুসলিম)
মুসা (আ.)-এর মুক্তির স্মৃতি
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, এদিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“মুসার অনুসরণে তাদের চেয়ে আমরাই বেশি হকদার।”
এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা
ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য পরিহারের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার সঙ্গে আরও একটি দিন মিলিয়ে রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন। তাই উত্তম হলো—
৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা, অথবা
১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা।
হাদিসে এসেছে—
“আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই ৯ মহররমও রোজা রাখব।”
— (সহিহ মুসলিম)
আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। এ দিনে রোজা রাখা, নফল ইবাদত করা, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালন করা সুন্নতের অনুসরণ এবং অধিক সওয়াবের মাধ্যম।