স্টাফ রিপোর্টার
তিন মাস পর আবারও বেড়েছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রোববার (২ আগস্ট) বিইআরসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এ মূল্য সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বেসরকারি এলপিজির খুচরা দাম প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা (মূসকসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই মাসে এ দাম ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা।
নতুন মূল্য অনুযায়ী ৫.৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৩২ টাকা, ১২.৫ কেজির ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৯৭ টাকা এবং ১৬ কেজির ২ হাজার ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩৯৭ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৫ হাজার ৯৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ৩ টাকা ২৭ পয়সা বাড়িয়ে ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা করা হয়েছে। জুলাই মাসে এ দাম ছিল ৭০ টাকা ৪০ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর আগস্ট মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্টে প্রোপেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের ৬৪০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে গড় সিপি দাঁড়িয়েছে ৬৩৩ ডলার, যা জুলাই মাসের ৫৯৩ ডলার থেকে ৪০ ডলার বেশি।
এছাড়া এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম হিসেবে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ ডলার এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সরকারি ১২.৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।
বিইআরসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা কিংবা অটোগ্যাস বিক্রির কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না।