স্টাফ রিপোর্টার
কক্সবাজারসহ সারাদেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘মানিকগঞ্জ জেলা ভিত্তিক পর্যটন সার্কিট গঠন, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) যাচাই কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় মানিকগঞ্জে জেলা-ভিত্তিক পর্যটন সার্কিট গঠনে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার, হ্যান্ডিক্রাফট সেন্টার এবং লাইফগার্ড সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বালিয়াটি প্রাসাদ, ধামরাই লোকশিল্প কেন্দ্রসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সম্পদ সংরক্ষণ, পুনর্বাসন এবং পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি এলাকার জন্য স্বতন্ত্র পর্যটন থিম নির্ধারণ করে প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার সঙ্গে পর্যটনকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আফরোজা খানম বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তাই এ খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি জানান, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু সংলগ্ন অতিথিশালাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রচারণামূলক ওয়েবসাইট Beautiful Bangladesh-এর মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভার শুরুতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
পাশাপাশি কক্সবাজারসহ সারাদেশে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পর্যটন পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।