নরসিংদী প্রতিনিধি
এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি এবং গ্যাস সরবরাহে তীব্র চাপ কমে যাওয়ায় নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক, স্পিনিং, ডাইং, সাইজিংসহ বিভিন্ন কল-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা পাঁচ দিনের এ সংকটে কয়েকটি কারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে একদিকে শিল্প মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় শিল্পকারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালাতে পারছে না। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় চুলায় গ্যাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
নরসিংদীর চৌয়ালা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ফকির সাইজিং মিলসহ কয়েকটি কারখানায় ইতোমধ্যে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালালেও উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মেসার্স ফকির সাইজিং মিলের স্বত্বাধিকারী আবুল হাসেম বলেন, দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পাকিজা স্পিনিং মিলসের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাব আলী মুন বলেন, গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্প খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, নরসিংদী দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ জেলা। এখানে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সুতা, ডাইং ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে উৎপাদন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।