আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের বেশি নিহত হওয়ার দাবি করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরব নিউজ পাকিস্তান-এর প্রকাশিত এক ভিডিও বিবৃতিতে জেএএসি নেতা সরদার উমর নাজির দাবি করেন, সোমবার (২৮ জুলাই) ভোটের প্রথম ধাপে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তাদের ২০ জন সমর্থক নিহত হন। পরদিন রাওয়ালাকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে আরও অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান।
নাজির বলেন, “আমাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ ও অহিংস। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।”
অন্যদিকে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। একই সঙ্গে জেএএসির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি উল্লেখ করে গণমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ওই এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পিয়ার পান্ডিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বার জেলায় প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। আগামী ২ ও ১০ আগস্ট আরও দুই ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাংকিং, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে, কাশ্মীরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারত-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা যুক্ত ছিল। তবে ভারত এ অভিযোগ বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করেছে।
জেএএসির অন্যতম প্রধান দাবি হলো, কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল করা। সংগঠনটির অভিযোগ, এই আসনগুলো ব্যবহার করে পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় পার্লামেন্টে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখছে।
এদিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সহিংসতা ও বিতর্কের কারণে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা