আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ছবি:
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর ভারতীয় সংসদে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোমবার (২৭ জুলাই) সংসদ ভবনে পৌঁছালে বিজেপি ও এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরা স্লোগান, করতালি এবং সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।
সংসদে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে হাসিমুখে সবার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এবং কাঁধে শাল তুলে দেন। চারদিকে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়।
এ সময় এক বিজেপি সংসদ সদস্য মন্তব্য করেন, কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াই কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা বিরল।
এ সময় কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ধর্মেন্দ্র প্রধানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এমনটা হয়েই থাকে।’ জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘কিছুই হয়নি। আমি এসি কক্ষের কর্মী নই, আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার।’
সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ।
রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে, পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে অথবা আসন্ন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হতে পারে।
পদত্যাগের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাবলীতে তিনি ব্যথিত। এটি তার ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করাই তার অগ্রাধিকার।
বিজেপির শীর্ষ নেতারাও তার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া দলীয় নেতারা দাবি করেছেন, তার পদত্যাগ দুর্বলতার নয়, বরং রাজনৈতিক জবাবদিহি, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতার উদাহরণ।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, মন্ত্রিত্ব হারালেও ওডিশা রাজনীতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রভাব অটুট থাকবে। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্য এবং রাজ্যে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন নেতারা। সূত্র: এনডিটিভি