আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনব্যাপী সংঘাতের সময় মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস এবং শতাধিক সেনাকে হতাহত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহেব্বি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইরানের হামলায় নজরদারি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত মোট ১৭টি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে আটটি ছিল নতুন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত আটটি বিমানও হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানকালে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তবে হামলার স্থান বা সংশ্লিষ্ট ঘাঁটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলায় ৯টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ৫টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, বিমান ও নৌবাহিনীর ৩টি নজরদারি রাডার, ৮টি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, ৫টি ইলেকট্রনিক পজিশনিং সিস্টেম (ইপিএস) রাডার, ৫টি দূরপাল্লার রাডার, ২টি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং একটি ট্যাকটিক্যাল রাডার কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এ ছাড়া ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্র গুদাম, ১২টি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, ৩টি লজিস্টিকস কেন্দ্র, ৬টি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, ৪টি হিমার্স রকেট লঞ্চার, একটি জ্বালানি জেটি, একটি চালকবিহীন জলযান সংরক্ষণাগার, একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, ৪টি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ৪টি হেলিকপ্টার এবং ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন যে হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেছে, তা প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়।
তিনি জানান, ইরান মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত আটটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি স্থাপনায় থাকা ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি, যাতে হতাহতের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আলী মোহেব্বি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য, উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী অন্য যেকোনো দেশ ভবিষ্যতে তেহরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্য যদি একই ধরনের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটিও ইরানের সম্ভাব্য হামলার আওতায় আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করারও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে।
মোহেব্বি অভিযোগ করেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসরায়েল ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এ অঞ্চলে সামরিকভাবে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করছে।
তবে আইআরজিসির উত্থাপিত এসব দাবি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।