আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে।
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলি-তে হামলার পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে নতুন হামলা এবং এর জেরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এভার লাভলি জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।
ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরির একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
সূত্র: এএফপি