স্টাফ রিপোর্টার
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি যানবাহনের ধাক্কায় একটি বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্যানের ভেতরের সড়কে যানবাহনের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কের মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ড এলাকায় প্রাণীটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, দুপুরের দিকে বনের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির কোনো যানবাহনের ধাক্কায় হনুমানটির মৃত্যু হয়। নির্জন এলাকা হওয়ায় ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে আসেনি।
শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার পথে স্থানীয় আলোকচিত্রী কাজল হাজরা সড়কের পাশে প্রাণীটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে লাওয়াছড়া বিট অফিসের বনকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে জানকিছড়া বন্যপ্রাণী সেবামূলক কেন্দ্রে নিয়ে যান।
শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখ নাজমুল জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বন বিভাগের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী মুখপোড়া হনুমানটিকে দাফন করা হবে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) রেড লিস্ট অনুযায়ী, মুখপোড়া হনুমান বাংলাদেশের একটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী।
এ ঘটনার পর লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে। লাওয়াছড়া পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে উদ্যান এলাকায় প্রায়ই বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। এসব প্রাণী রক্ষায় সড়কে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বসানো এবং বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে বিপন্ন বন্যপ্রাণীর জন্য এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।