রবিউল ইসলাম হৃদয়
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে র্যাব, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর সিসা, কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানায় সিসা উৎপাদনের কাজে জড়িত সাতজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশি ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-১৪, হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কারখানাটিতে অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে বসতি ও ফসলি জমির কাছাকাছি ওই কারখানায় পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সিসা উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ কাজে উৎপন্ন বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্য স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অভিযানের সময় সিসা উৎপাদনের কাজে সাতজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শরীয়তপুরের সখিপুরের আঃ রহিম (২৪), ঢাকার সাভারের আঃ মান্নান (৪৮), গাইবান্ধার সাঘাটার মঞ্জুরুল ইসলাম (২৪), নাটোরের গুরুদাসপুরের মেহেদী হাসান (২২), গাইবান্ধার সাঘাটার আনারুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার মশিউর (২৮) ও শিপন (২০)।
অভিযান শেষে অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিসা উৎপাদনে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর সিসা, কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় কারখানার মালিকরা কৌশলে পালিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।