আজাদ কবির, অস্ট্রেলিয়া থেকে
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন, সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির সেতু গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘ঢাকা সিডনি ইনসাইডার’।
সিডনির হার্স্টভিল সিভিক থিয়েটারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা সিডনি ইনসাইডার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, কমিউনিটি নেতৃত্ব, আইন, শিক্ষা, ব্যবসা ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচনার বিষয় ছিল—‘গণমাধ্যমের গুরুত্ব: তথ্য প্রদান, সংযোগ স্থাপন এবং বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করা।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাল্টিকালচারালিজম (বহুসংস্কৃতিবাদ)-এর সংসদীয় সচিব মার্ক বুটিগিগ এমএলসি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সহকারী প্রেসিডেন্ট, এনএসডাব্লিউ পার্লামেন্ট শওকত মোসলমানি, ডেপুটি মেয়র মাসুদ চৌধুরী, কাউন্সিলার এলিজা রহমান, কাউন্সিলর মাসুদ খলিল এবং সাবেক কাউন্সিলার শাহে জামান টিটু।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিউনিটি নেতা গামা আব্দুল কাদের, একুশে একাডেমির সভাপতি সুলতান মাহমুদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, কমিউনিটি নেতা শফিকুল আলম, বিশিষ্ট কলামিস্ট অজয় দাস গুপ্ত, কলামিস্ট ড. সাখাওয়াত নয়ন, কমিউনিটি নেতা ফজলুল হক সফিক, গ্রেস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক সিমরিতা খাডকার এবং বিশিষ্ট আইনজীবী রাজদত্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ঢাকা সিডনি ইনসাইডার’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. মো. সিরাজুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান সম্পাদক আজাদ কবির। পরে নির্বাহী সম্পাদক রহমত উল্লাহর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তমঞ্চের সম্পাদক মো. নোমান শামীম, সিডনি বাংলা নিউজের সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অর্ক হাসান, স্বদেশ বার্তার সম্পাদক ফয়সল আজাদ এবং বাংলাদেশ মিডিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি হুমায়ুন কবির রোজসহ অনেকে।
শুধু সংবাদ নয়, যোগাযোগের সেতু
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের দায়িত্ব কেবল সংবাদ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিভিন্ন কমিউনিটির কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন বক্তারা।
তারা বলেন, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কমিউনিটি মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কমিউনিটির মানুষের কথা তুলে ধরতে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার ও বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতেও গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
‘সংবাদ প্রকাশ করাই শেষ কথা নয়, টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ’
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, একটি সংবাদপত্র বা নিউজ প্ল্যাটফর্ম চালু করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও দীর্ঘমেয়াদে সেটিকে টেকসই করা অনেক বেশি কঠিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। পাঠকের আস্থা অর্জন, নির্ভুল ও যাচাই করা তথ্য প্রকাশ, দক্ষ সাংবাদিকতা ধরে রাখা, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং আর্থিকভাবে গণমাধ্যমকে টেকসই রাখা এখন বড় বিষয়।
বিশেষ করে কমিউনিটি মিডিয়ার ক্ষেত্রে শুধু সংবাদ প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পাঠকের প্রয়োজন বুঝতে হবে, সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পেশাগত নীতি ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।
বক্তাদের মতে, একটি গণমাধ্যমের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে পাঠকের আস্থা, সংবাদে বৈচিত্র্য, পেশাদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর।
বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় গণমাধ্যমের নতুন ভূমিকা
আলোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতাও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন দেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠী নিজ নিজ ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে দেশটির সমাজের অংশ হয়ে উঠেছে। এই বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে কমিউনিটি মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বক্তারা মত দেন।
তাদের মতে, একটি কমিউনিটি সংবাদমাধ্যম একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারে। একদিকে নিজস্ব কমিউনিটির মানুষের সমস্যা, সাফল্য ও অর্জনের কথা তুলে ধরা; অন্যদিকে সেই কমিউনিটির সঙ্গে বৃহত্তর অস্ট্রেলিয়ান সমাজের যোগাযোগ তৈরি করা।
বাংলাভাষী অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বাংলাদেশের সংবাদ, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ খবর, অভিবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, সংস্কৃতি, কমিউনিটি কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
নতুন প্রত্যাশায় ‘ঢাকা সিডনি ইনসাইডার’
অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘ঢাকা সিডনি ইনসাইডার’ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
‘ঢাকা সিডনি ইনসাইডার’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়—প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর সমাজের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের সেতু তৈরি করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও সহজ করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার সমাজের কাছে বাংলাদেশি কমিউনিটির গল্প, সাফল্য ও অবদান তুলে ধরতে চায় প্ল্যাটফর্মটি।
সম্পাদনা নোট: মূল কপিতে ৮ সেপ্টেম্বরকে ‘বুধবার’ বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার; তাই প্রতিবেদনে ওই দিনের বারটি বাদ দিয়ে তারিখ রাখা হয়েছে, যাতে তথ্যগত অসঙ্গতি না থাকে।
আপনি চাইলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত সংবাদভাষায় বা আরও আকর্ষণীয় ফিচারধর্মী ভঙ্গিতে সাজানো যায়—কোনটি পছন্দ করবেন?