অর্থনীতি ডেস্ক
দেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। এক মাসের ব্যবধানে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। মে মাসে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-ব্যাংকিং ও ই-কমার্সবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)। তবে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কে (বিইএফটিএন) লেনদেন কমেছে।
জুনে আরটিজিএসের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৫০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। মে মাসে এ পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ২২ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে আরটিজিএস লেনদেন বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ বা ১০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। তাৎক্ষণিকভাবে বড় অঙ্কের আন্তব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিতে আরটিজিএস ব্যবহৃত হওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে বড় অঙ্কের অর্থের প্রবাহ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, এনপিএসবির মাধ্যমে জুনে লেনদেন হয়েছে ৫৭ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। মে মাসে এ পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এক মাসে এ মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে ব্যাচভিত্তিক আন্তব্যাংক অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত বিইএফটিএনে লেনদেন কমেছে। মে মাসে এ ব্যবস্থায় লেনদেন ছিল ১২ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে কমেছে ১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক সেবা গ্রহণ করছেন। ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে ঘরে বসেই অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধসহ নানা সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহকের সংখ্যা সামান্য কমেছে। মে মাসে মোট গ্রাহক ছিল ২ কোটি ২৮ লাখের বেশি। জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখে। এক মাসে গ্রাহক কমেছে দশমিক ৬৪ শতাংশ।
জুনের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহকদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ৭৮ লাখ, নারী ৪৪ লাখ এবং ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে রয়েছেন ৪ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক। ফলে মোট গ্রাহকের মধ্যে নারীর অংশ এখনো পুরুষের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে জুন শেষে দেশের ৫৮টি তফসিলি ব্যাংক গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।
ব্যাংকারদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো শক্তিশালী হওয়া এবং গ্রাহকদের অনলাইননির্ভরতা বাড়ার কারণে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বাড়ছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের অর্থ দ্রুত স্থানান্তরে আরটিজিএস এবং কার্ড ও হিসাবভিত্তিক তাৎক্ষণিক লেনদেনে এনপিএসবির ব্যবহার বাড়ায় সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণে এর প্রভাব পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকসংখ্যা সামান্য কমলেও লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়া থেকে বোঝা যায়, বিদ্যমান গ্রাহকদের একটি অংশ আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহার করছেন। তবে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রকৃত বিস্তার নিশ্চিত করতে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাহকদের আস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, এক মাসে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন বৃদ্ধি দেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের গতি বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।