স্পোর্টস ডেস্ক
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক আলোচনা। অনেকের ধারণা ছিল, এত বেশি দাম হলে গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি কমে যাবে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্টেডিয়াম ছিল প্রায় দর্শকপূর্ণ, যা বিশ্বকাপের প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের অদম্য আগ্রহেরই প্রমাণ।
রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যকার ফাইনালকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাচটির টিকিটের দামও পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচে স্টেডিয়ামের প্রায় ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ আসন পূর্ণ ছিল। অর্ধেকের বেশি ম্যাচের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যায়। টুর্নামেন্টের শুরুতে কয়েকটি ম্যাচে কিছু আসন খালি থাকলেও পরে প্রায় সব ম্যাচেই দর্শকের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
এবার প্রথমবারের মতো ডাইনামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যনীতি চালু করে ফিফা। ফলে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও বেড়েছে। গ্রুপ পর্বে একটি টিকিটের প্রাথমিক মূল্য ছিল ৫৭৫ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি গ্রুপ পর্বের টিকিটের দ্বিগুণেরও বেশি। পরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অনেক দর্শককে আরও বেশি দাম গুনতে হয়েছে।
ফাইনালের আগে কিছু সময় ফিফার বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ৭ হাজার ডলারের টিকিট পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোও বিক্রি হয়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েকটি টিকিটের মূল্য ৩২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।
টিকিট বিশেষজ্ঞ স্কট ফ্রিডম্যানের মতে, বিশ্বকাপের চাহিদা সম্পর্কে শুরু থেকেই ফিফার স্পষ্ট ধারণা ছিল। তাই তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করেছিল এবং দর্শকেরাও সেই মূল্য পরিশোধ করে টিকিট কিনেছেন।
এদিকে পুনর্বিক্রয় বাজারেও টিকিটের দাম ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। একটি জনপ্রিয় টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ফাইনালের একটি টিকিটের গড় পুনর্বিক্রয় মূল্য ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আগের যেকোনো বড় ক্রীড়া আসরের চেয়ে বেশি।
তবে টিকিটের উচ্চ মূল্য নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। স্থানীয় দর্শকদের জন্য সীমিতসংখ্যক কম দামের টিকিট ছাড়তে বাধ্য হয় ফিফা। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিশ্বের অনেক দেশের সমর্থক ভিসা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে মাঠে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে বিতর্ক থাকলেও দর্শক উপস্থিতি ও টিকিট বিক্রির দিক থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপকে বড় সফলতা হিসেবেই দেখছে ফিফা। চড়া টিকিটের দামও যে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা কমাতে পারেনি, তা এবার স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়েছে।