কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় পানির ট্যাংক বিতরণে চরম অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সুবিধাভোগীদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, লতাচাপলী ও ধুলাসার ইউনিয়নে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ৫০০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
গত ১৮ জুলাই (শনিবার) মহিপুর থানার পুরান মহিপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খরচে ট্যাংক ও নির্মাণসামগ্রী সুবিধাভোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া এবং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সুবিধাভোগীদের নিজ খরচে ট্যাংক পরিবহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ট্যাংক হস্তান্তরের সময় "অনলাইন খরচ"-এর অযুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের স্বামী জানান, "আমরা নিজেদের খরচে পুরান মহিপুর থেকে ট্যাংক বাড়িতে এনেছি। এরপর আবার 'অনলাইন খরচ' দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।"
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান। কৃষ্ণ কর্মকার নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, "আমি ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ট্যাংক বাড়িতে এনেছি। এরপরও আবার অনলাইন খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।"
এছাড়া ট্যাংক স্থাপনের জন্য নির্মিত প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাব্বী সাংবাদিকদের কোনো তথ্য না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং তথ্য প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টাও চালান।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শোয়াইব। তিনি জানান, "বৃষ্টি ও কাঁচা রাস্তার কারণে সব জায়গায় ট্যাংক সরাসরি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরিবহন ভাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান না দিয়ে থাকলে বা কেউ অন্যায়ভাবে টাকা আদায় করে থাকলে, বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) কলাপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, "চুক্তি অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও সুবিধাভোগীর বাড়িতে ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কাজে বা অর্থ আদায়ে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"