নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে আগামী ১৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি মামলার দুটি অভিযোগ উপস্থাপন করেন। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা এবং তৎকালীন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভূমিকা পালন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ আওয়ামী লীগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, একেএম শহীদুল হক, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুসহ আরও অনেকে এ মামলার আসামি।
বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ডা. দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, একেএম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক বাবুসহ ১০ জন। অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া ড. আব্দুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।
তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় মোট ৬২ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন রয়েছেন।
মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত হবে।