স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে এমআইএসটির শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রসিকিউশন এ অভিযোগ দাখিল করে। এ মামলার ওপর একই দিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৯ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
মামলায় বর্তমানে সাতজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন এবং কনস্টেবল মাসুদ মিয়া।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় ইয়ামিনকে আটক করে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর বুকে গুলি করা হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রাখা হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গাড়িটি বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। পরে তাঁকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে একজন পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে রাস্তার পাশের বিভাজকের কাছে ফেলে রেখে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।