টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ এক রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। নিহত মোহাম্মদ কবির (৩৫) উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৮ ব্লকের বাসিন্দা। তাঁর পিতা রহমত উল্লাহ।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণপাড়া হাজীপাড়া বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় জোয়ারের পানিতে একটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেড়িবাঁধের কংক্রিট ব্লকের মধ্যে কাপড়বিহীন অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ আটকে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, শুক্রবার ভোরে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম উপকূলে উত্তাল সাগরে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের একজনের মরদেহ এটি। পরে নিহতের স্বজনরা এসে মরদেহটি শনাক্ত করলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-মাঝি মনির আহমদ জানান, শুক্রবার ভোরে নৌকাডুবির ঘটনায় মোহাম্মদ কবির নিখোঁজ হন। শনিবার উপকূল থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তাঁর ছোট ভাই ফয়সাল ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব বলেন, “বেড়িবাঁধের ব্লকের মধ্যে আটকে থাকা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে টেকনাফ মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা সেটি মোহাম্মদ কবির নামে এক রোহিঙ্গার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম উপকূলে উত্তাল সাগরে রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন। উদ্ধার হওয়া এই মরদেহটি সেই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের একজনের বলে নিশ্চিত করেছে পরিবার ও পুলিশ।