মো. জিল্লুর রহমান জাহিদ, ময়মনসিংহ
আধ্যাত্মিক জগতে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব, ত্যাগী সাধক ও মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নাজিমুদ্দিন পীর সাহেব আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে আধ্যাত্মিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত-অনুরাগী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সত্য, ন্যায়, মানবতা ও আত্মশুদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা, নৈতিক শিক্ষা এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। জাগতিক মোহ, লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি মানুষের মাঝে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবপ্রেম ও সৎ জীবনযাপনের শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
নাজিমুদ্দিন পীর সাহেবের ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিনয়, সততা ও আন্তরিকতা। অহংকারবিমুখ এই সাধকের সহজ-সরল জীবনাচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধ তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে দেয়। তাঁর সান্নিধ্যে এসে অসংখ্য মানুষ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবন গঠনের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
তিনি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং মানবসেবা, চরিত্র গঠন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও সমানভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি হলো মানবকল্যাণ, সততা ও উত্তম চরিত্র।
সাংসারিক জীবনে তিনি তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। প্রায় ৭১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে ভক্ত-অনুরাগীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর আদর্শ, শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা মরহুম নাজিমুদ্দিন পীর সাহেবকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও ভক্ত-অনুরাগীদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।