রাবি প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ধর্মীয় অবমাননার ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৭ জুন) 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সনাতনী শিক্ষার্থীবৃন্দ'-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্যারিস রোড হয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের হাতে 'ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার সাংবিধানিক অধিকার', 'সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাস করো', 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস', 'ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা চাই' এবং 'সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে ধর্মীয় সম্মান রক্ষা করুন' সংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড দেখা যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা "ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বন্ধ কর, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়", "সনাতনীর অধিকার, রক্ষা করো এইবার" এবং "ধর্ম যার যার, অধিকার সবার" ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সনাতনী শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী বকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, "আমরা বারবারই রাষ্ট্রের কাছে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছি। একই দেশ, একই কর, একই শিক্ষাব্যবস্থা, তারপরও দুটি গোষ্ঠীর জন্য দুই রকম আইন। আমরা ১৯৭১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেখতে পাই এ রাষ্ট্র বিনির্মাণে, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে, সংস্কৃতিতে আমাদের যথেষ্ট অবদান আছে। মাননীয় ধর্মমন্ত্রী বলেছিলেন, 'দেশের কোথাও যদি সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হয় তাহলে আমি পদত্যাগ করব।' আমরা বলব, আপনার পদত্যাগ করতে হবে না; আপনারা শুধু বিচার করুন।"
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. অমিত কুমার দত্ত বলেন, "আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে গত ৮০ বছরে আমাদের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ কমে গেছে এবং আমাদের যত সম্পদ ছিল তার ৯০ শতাংশ আমাদের হাত থেকে চলে গেছে। এ থেকেই বোঝা যায় এদেশের সনাতনীরা কোন পর্যায়ে আছে। এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা; তবুও আমরা আলাদা করে কোনো স্বীকৃতি চাইনি। আমরা চাই সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে, আমরা চাই সবার সমান অধিকার"
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি মূর্তির বিরোধিতা করে আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে কতিপয় ব্যক্তি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ও অবমাননাকর আচরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়,সে ঘটনার প্রতিবাদেই এ প্রতিবাদ সমাবেশ।