ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ছবি:
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা আসলে এ দেশের সাধারণ জনগণেরই পরিকল্পনা। এই গণমুখী পরিকল্পনাকে যারা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ; মালিক যদি সতর্ক থাকে, তবে আর কারও কোনো টেনশন থাকবে না।"
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ডের ৩য় পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রম’-এর গ্র্যান্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জনগণের অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগ একটি রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়, নাগরিক হিসেবে জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন:
"বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট সরকার, দল বা পরিবারের নয়; বাংলাদেশ এ দেশের ২০ কোটি মানুষের। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন মানে এই ২০ কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।"
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত দিনগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে যখনই দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত স্থিতিশীলতার পথে এগিয়েছে, তখনই একটি চক্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। ১৭৩ দিন হরতাল, অবরোধ ও ভাঙচুর করে দেশের ক্ষতি করা হয়েছে। তবে বর্তমানের নতুন বাংলাদেশে মানুষ আর সংঘাত চায় না, তারা কাজ, শান্তি ও ভালোভাবে বাঁচার নিশ্চয়তা চায়।
বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বেশ কয়েকটি মেগা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে-
ফ্যামিলি কার্ড: দেশের চার কোটি পরিবারের নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড।
কৃষক কার্ড: প্রায় তিন কোটি কৃষকের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় দেওয়া হবে কৃষক কার্ড।
শিক্ষা ও ধর্মীয় খাত: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে নতুন পোশাক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
পরিবেশ উন্নয়ন: দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হবে। বিশেষ করে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মেগা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর কমিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার নিরলস চেষ্টা চলছে।
ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের বিশাল তহবিলের উৎস নিয়ে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
"অনেকে প্রশ্ন করেন এত টাকা কোথা থেকে আসবে? আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই—জনগণের অর্থ আর কোনোদিন বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। পাচার বন্ধ হলে যে রাজস্ব বাঁচবে, দেশের সেই অর্থ এ দেশের মানুষের কল্যাণেই ব্যবহার করা হবে।"
দ্রুত নির্বাচন বা সরকারকে সময় না দেওয়ার দাবি তোলা রাজনৈতিক মহলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা মূলত জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে কথা বলছেন। জনগণ বিএনপিকে ৫ বছর দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই জনগণের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
অতীতের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আজ যারা বড় বড় কথা বলছেন, তাদের অনেককেই গণতন্ত্রের মূল আন্দোলনে মাঠে দেখা যায়নি। রাজপথে যারা শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন, কিংবা বছরের পর বছর জেল-জুলুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের সিংহভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।"
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এক নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, "আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি হবে শুধুই দেশ গড়ার রাজনীতি। 'সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ'—এই হোক আমাদের পথচলার মূল অঙ্গীকার।"