মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ হাজার ছাড়াল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ (সন্দেহজনক) নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত তিন মাসেরও কম সময়ে সন্দেহজনক হামে মোট ৫৬৮ শিশুর প্রাণহানি ঘটল। অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন।
বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের হাম পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়েছে।২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৯৬৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে ১১১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হলেও, ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে এই সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।তিন মাসে আক্রান্ত ও হাসপাতালের পরিস্থিতি (১৫ মার্চ – ১৭ জুন)গত তিন মাসে দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো-ক্যাটাগরিসন্দেহজনক (উপসর্গযুক্ত)ল্যাব নিশ্চিত (Confirmed)মোট আক্রান্ত৮৮,৮৯৫ জন১০,৬৩৪ জনমোট মৃত্যু৫৬৮ জন (শিশু)৯৩ জন।
হাসপাতালের চিত্র: গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩,২৭৭ জন রোগী। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এদের মধ্যে ৬৯,৬৮৮ জন সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অবশিষ্ট রোগীরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতাস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে।
হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ওঠা, সর্দি-কাশি এবং চোখ লাল হওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ।শিশুর মধ্যে এসব উপসর্গ দেখামাত্রই তাকে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সাথে সংক্রমণ রোধে শিশুদের নিয়মিত ইপিআই (EPI) কর্মসূচির আওতায় হামের টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।