স্টাফ রিপোর্টার
দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ, যা আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায় কম।
সোমবার প্রকাশিত বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তা আরও কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ধীরগতি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শ্লথগতির প্রভাবও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিবিএসের সাময়িক হিসাবে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি
জিডিপির তিনটি প্রধান খাত—কৃষি, শিল্প ও সেবা। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ০ দশমিক ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ এ খাতে উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
অন্যদিকে, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।
মূল্য সংযোজন বেড়েছে
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতিতে স্থির মূল্যে মোট ৯ লাখ ৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন হয়েছে। আগের প্রান্তিকে এর পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মূল্য সংযোজন হয়েছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১০ কোটি টাকা।
জিডিপি কী?
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) একটি দেশের নির্দিষ্ট সময়—সাধারণত এক বছরে—উৎপাদিত সব চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যকে বোঝায়। এটি একটি দেশের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান সূচক।