রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন,“জুলাই কোনো একক ঘটনা নয়। ১৭ বছরের বঞ্চনার কারণেই জুলাই অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি বঞ্চনার শিকার হয়েছে এবং সেই বাস্তবতাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি করেছে।"
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখলে আপনারা দেখবেন, জুলাইকে নিয়ে কী ধরনের ব্যবসা করা হয়েছে। কেউ কেউ এই ১৭ বছরের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। ছাত্রদল নিয়ে যারা আজেবাজে কথা বলেন, তাঁদের বলতে চাই—ছাত্রদল প্রত্যক্ষভাবে মাঠে ছিল, আমি তার সাক্ষী।”
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৬ বা ১৭ তারিখ আমরা মেইন গেটের তালা ভেঙে নাটোর রোড অবরোধ করি। সেদিন রাত ৩টায় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাকে ফোন করে পরবর্তী কর্মসূচি জানতে চাওয়া হয়। পরে আমার স্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করলে আমি বলেছিলাম, রাস্তায় যে ছাত্ররা প্রাণ দিচ্ছে, তাদের তুলনায় আমার কিছু হলেও তোমরা ভালো থাকতে পারবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রশাসনের সমালোচনা করে উপাচার্য বলেন, “আমরা এমন আচরণের শিকার হয়েছিলাম, যেন আমরা রাস্তার কুকুর। কোনো উপাচার্য একজন অধ্যাপকের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারেন—তা আমার জানা ছিল না।”
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা সেই জাতির চেতনায় পরিবর্তন আনে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তেমনই একটি ঘটনা। এটি এক দিনের ঘটনা নয়; এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটাবিরোধী আন্দোলনেও একই ধরনের দমন-পীড়ন দেখা গেছে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মো. গোলাম সাদিক। তিনি বলেন, “জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নতুন করে জানা এবং সেখান থেকে চেতনাকে শাণিত করাই আজকের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।”
অধ্যাপক আমীরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয়, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।